Home দেশের খবর রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে ব্যস্ত চাষিরা

রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে ব্যস্ত চাষিরা

0
0
Exportable mango
Exportable mango

Exportable mango

Exportable mango  রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে ব্যস্ত চাষিরা

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:

 ২০ মাহে শাবান শরীফ, ১৪৪০


অন্যান্য জেলার তুলনায় ১৫-২০ দিন আগে সাতক্ষীরার আম পেকে যায়। তাই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জকে পেছনে ফেলে রপ্তানি বাজারে বিশেষ গুরুত্ব পায় সাতক্ষীরার ল্যাংড়া, হিমসাগর ও আম্রপালি আম। সারাদেশেও রয়েছে এ জেলার আমের বিপুল চাহিদা। তাই রপ্তানি ও দেশের চাহিদা মেটাতে জৈব পদ্ধতিতে কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগের দাবি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আম রপ্তানিতে এবারও দেশের মধ্যে শীর্ষে থাকবে সাতক্ষীরা। যদিও আমের দাম নিয়ে কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন আম চাষিরা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এ লক্ষ্যে জেলার প্রায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ৩ হাজার ৯৮৯টি বাগানে আম গাছ পরিচর্যা করা হচ্ছে।
এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩১.৮৩ মেট্রিক টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ মেট্রিক টন নিরাপদ ও বালাইমুক্ত আম রপ্তানির পর চলতি মৌসুমেও আম রফতানির লক্ষ্যে জেলার ৫০০ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
আম চাষিদের দাবি, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি, ঝড় ও অতিরিক্ত গরমে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝরে পড়ছে প্রচুর পরিমাণে আমের গুটি। সঙ্গে সঙ্গে গাছ ও গাছের ডাল ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমচাষিরা। তারপরও গাছে যা আম রয়েছে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটার আমচাষি শাহাদাত হোসেন জানান, গত বছর তার বাগান থেকে ৫ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছিলো। এ বছরও তার বাগানে প্রায় ২০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোনো সমস্যা না থাকলে এবছরও তার বাগানের হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি আম যাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে।
সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের আমচাষি এসএম লিয়াকত হোসেন জানান, ২০১৪ সাল থেকে তিনি বিদেশে আম রপ্তানি করছেন। গত বছর ৩০-৩২ মণ আম রপ্তানি করেছেন। এবছরও তার বাগানে ২৫-২৬ মেট্রিক টন আম রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। জৈব উপায় সার প্রয়োগ, ফেরোমন ফাঁদ দেওয়া, নিয়মিত বাগান পরিষ্কার করাসহ সব ধররের কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরো জানান, আমের দাম নিয়ে একটু সমস্যা হয়। বাইরে পাঠানোর জন্য আম প্রস্তুত করতে গেলে অনেক পরিচর্যা করতে হয়। খরচ বেশি হয়। সেই তুলনায় দাম কম পাওয়া যায়। ভালো দাম পাওয়ার জন্য সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমজাদ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমেও বিদেশে আম রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রিমিয়াম কোয়ালিটির আম উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, পোস্ট হার্ভেস্ট ম্যানেজমেন্ট, উত্তম কৃষি পদ্ধতি বা গুড অ্যাগ্রিকালচার প্রাকটিস (গ্যাপ), ক্লাস্টারভিত্তিক মাছি পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ স্থাপন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আশা করা যায় সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবং মে মাসের শেষ সপ্তাহে সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম উড়াল দিবে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে এবং দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে।
Source: Al Ihsan