Home ইসলামী শিক্ষা Democracy ইসলামের নামে গনতন্ত্র করা হারাম

Democracy ইসলামের নামে গনতন্ত্র করা হারাম

1
0
Democracy গণতন্ত্র
Democracy

Democracy ইসলামের নামে গনতন্ত্র করা হারাম

মানুষের রচিত তন্ত্র-মন্ত্র আর মহান আল্লাহপাক উনার দ্বীন ইসলাম কখনোই একসাথে চলতে পারে না
মুহম্মদ ইবরাহীম সোহেল

গণতন্ত্র একদিক থেকে যেমন দেশ ও জাতির অনিষ্টকারী দুরারোগ, তদ্রুপ এর দ্বারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিসাধনও কম হয় না। বরং প্রকৃতপক্ষে এটি দ্বীন ইসলাম উনারই বেশি ক্ষতিসাধন করেছে। আব্রাহাম লিঙ্কন প্রবর্তিত গণতন্ত্র সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সাথে কতোটা সাংঘর্ষিক ও মুসলমানদের ঈমান-আমল অনিষ্টকারী তা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার হুকুম আর ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের হুকুমের কয়েকটি পার্থক্য ফিকির করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে-
(১) “যাবতীয় ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনারই জন্য।” (পবিত্র সূরা বাকারা: আয়াত শরীফ ১৬৫)
আর গণতন্ত্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। নাউযুবিল্লাহ!
(২) “মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া কারও বিধান দেয়ার ক্ষমতা নেই।” (পবিত্র সূরা ইউসুফ: আয়াত শরীফ ৪০)
কিন্তু গণতন্ত্র মতে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জনগণ, সংসদ, মন্ত্রী-এমপির। নাউযুবিল্লাহ!
(৩) “মহান আল্লাহ পাক সার্বভৌমত্বের মালিক।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান: আয়াত শরীফ ২৬)
কিন্তু গণতন্ত্রে সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ। নাউযুবিল্লাহ!
(৪) “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি (উম্মতদের বলে দিন তারা) যদি অধিকাংশের রায়কে মেনে নেয়, তাহলে তারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে।” (পবিত্র সূরা আন’আম : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৬)
কিন্তু এ বিষয়ে গণতন্ত্র বলছে, অধিকাংশের রায়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। নাউযুবিল্লাহ!
এমন আরো শত সহস্র উদাহরণ দেয়া যাবে। তবে এখানে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সাথে যে বিষয়গুলো সাংঘর্ষিক বা হারাম, সে বিষয়গুলো কিছুতেই শান্তিপূর্ণ, কল্যাণকর হতে পারে না বরং অশান্তিকর, অকল্যাণকর এবং ক্ষতিকর।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগবে, তাহলে এর বিকল্প পন্থা কি হতে পারে? নিঃসন্দেহে পবিত্র দ্বীন ইসলাম; যা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ পাক উনার মনোনিত এবং মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ শান্তিময় জীবনব্যবস্থা। ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তথা খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুওওয়াহ শাসন ব্যবস্থা শুধু একটি দেশ নয়, বরং এক খলীফা উনার অধীনে গোটা পৃথিবীর শাসন ব্যবস্থা। যেরূপ হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
দ্বিতীয়ত প্রশ্ন আসবে, বর্তমান যুগে এমন ব্যক্তিত্ব কে আছেন, যিনি সম্মানিত খলীফা হওয়ার উপযুক্ত? এখানেও নিঃসন্দেহে বলতে হয়, যিনি সর্বাধিক তাক্বওয়াধারী, পরহেজগার, ফক্বীহ এবং যিনি কাফিরদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর। তিনি কোনো নাহক্ব-এর সাথে কোনো প্রকার আপোস করবেন না। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক বিষয়গুলো প্রকাশ করবেন এবং দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে মিশ্রিত সমস্ত হারাম, নাজায়িয ও কুসংস্কারকে তিনি অকাট্য দলীল দ্বারা খণ্ডন করে দূরীভূত করবেন। সুবহানাল্লাহ! এজন্য সমস্ত বাতিল ফিরক্বা ও কাফির-মুশরিকরা উনার ভয়ে তটস্থ থাকবে। এছাড়া সম্মানিত খলীফা হওয়ার শর্ত অনুযায়ী তিনি পবিত্র কুরাঈশ বংশের এবং আওলাদে রসূল হবেন। উনার পবিত্র আমল আখলাক মুবারক, সীরত-ছূরত মুবারক, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সুন্নত উনার অনুসরণ-ইত্তেবা হবে অতুলনীয়।